টিপস এন্ড ট্রিকস

স্বামীকে হাতে রাখার উপায়। সহজেই স্বামীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন

স্বামীকে হাতে রাখার উপায় – স্বামীকে নিজের হাতে রাখা বা কন্ট্রোলে রাখা মানে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা নয়।  বরং সংসারের মঙ্গলের জন্য,  এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সুখী জীবন যাপনের জন্য কখনো  এরকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়।  কারণ বৈবাহিক জীবন বা পরিবারের ভালোর জন্য যদি কিছু করার দরকার হয়,  তবে সেটা কোন ভুল কাজ নয়।

একজন ছেলে ও মেয়ে যখন দুজন মিলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়,  তারপর দিন যায় তো দুজন দুজনের বিষয়ে আরো অনেক কিছু জানতে পারে।  মাঝেমধ্যে অনেক সমস্যা ও তৈরি হয়।  তবে ঝগড়াঝাটি করে কোন সিদ্ধান্তে আসা মোটেও ঠিক নয়,  বরং তা জিতের বিপরীতে সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলবে।

 একজন স্ত্রী হিসেবে আপনি যদি এই সকল সমস্যা এড়িয়ে চলতে চান,  তবে রাখতে।  স্বামীকে নিজের বশে রাখার সহজ কিছু উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

স্বামীকে হাতে রাখার উপায়

স্বামীকে আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম নীতি নির্ধারণ করুন।

বরকে নিয়ন্ত্রণ রাখার সহজ উপায়ঃ  আপনার স্বামীকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিজেদের মধ্যে কিছু নিয়ম নীতি নির্ধারণ করুন।  যেমন রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময়,  পুনরায় ঘরে ঢোকার সময়,  খাবার খাওয়ার সময়  অথবা ঘুম থেকে উঠার সময় কি করা উচিত  এবং কি হওয়া উচিত ইত্যাদি।  ধরতে পারেন রাতে বের হওয়ার সময়  আওয়াজ করে ঘর থেকে বের হওয়া,  ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া বা  প্রণাম করা, খাবারের আগে  হাত ধৌত করা  এবং বিসমিল্লাহ বলা।  খাবারের পর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।  সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনকে চুমু দেওয়া। 

এবং সেই নিয়ম-নীতিগুলো ভঙ্গ করার ফলে কি পরিণতি হতে পারে,  সেটাও তাকে ব্যাখ্যা করুন।  তবে সাবধান আপনার কথার মাঝে যাতে শান্তি এবং যুক্তিযুক্ত হাসিময় উপস্থাপনা থাকে।  অযথা ঝগড়া ঝাটি করে কোন লাভ নেই,  নতুবা হিতে বিপরীত হতে পারে। 

স্বামীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজেও নিয়ম মেনে চলুন

মনে রাখবেন আপনি যে নিয়ম-নীতিগুলো বানাবেন,  সেগুলো আগে নিজে পালন করতে থাকুন। কারণ আপনি নিজে ঠিক না থাকলে তাকেও ঠিক রাখতে পারবেন না।  যেমন ধরুন আপনি যদি কর্মরত হন,  তাহলে নিজেও সালাম দিয়ে ঘরে ঢুকুন,  খাবারের সময় বিসমিল্লাহ বলা, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনসহ  যাবতীয় নিয়ম-নীতিগুলো মেনে চলুন।  তাহলে আপনার দেখাদেখি সেও মানতে শুরু করবে।  অযথা জোর করে তাকে দিয়ে নিয়ম গুলো পালন করতে বাধ্য করবেন না।

আরও পড়ুন ;  কোন আলোতে চোখের সংবেদনশীলতা সবচেয়ে বেশি এবং কম?

স্বামীর আত্মমর্যাদা কে সম্মান করুন

স্বামীকে হাতে রাখার উপায়। সহজেই স্বামীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন
স্বামীকে হাতে রাখার উপায়। সহজেই স্বামীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন

যেহেতু পুরুষ এবং মহিলা মাত্রই দুই শ্রেনীর মানুষ।  সুতরাং দুইজন ভিন্ন মানুষ মাত্রই মতামত ও তাদের ভিন্নতা  থাকতে পারে। সব সময় নিজের চিন্তা ভাবনাকে প্রাধান্য দিন কিন্তু আপনার প্রিয়জনের কথা শুনুন।

স্বামীকে হাতে রাখার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্বামীর আত্মমর্যাদাকে বাড়িয়ে তুলুন।  এমনকি আপনি নিজেও আপনার প্রিয়জনের আত্মমর্যাদা কে সম্মান করুন।  তাকে বোঝান যাতে করে সেও আপনার ভাবনা গুলোকে সম্মান করে।  তাহলে দেখবেন দুজনের মধ্যে অনেক সমস্যাই,  কথা বলার মাধ্যমে মিটমাট হয়ে যাবে।

আপনি যদি চান আপনার স্বামী কোন একটি কাজ না করুক,  তাহলে তাকে বুদ্ধিমত্তার সহিত বুঝিয়ে বলুন।  এবং তাকে আপনার পক্ষে রাজি করানোর জন্য ভিন্ন কিছু কৌশল ফলো করুন।  যেমন ধরুন,  আপনি যদি চান আপনার স্বামী তার বন্ধুদের সাথে বাইরে আড্ডা না দেক,  তাহলে অযথা চিৎকার চেঁচামেচি না করে, সুন্দর মত আবেগঘন ভাবে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন। এবং আপনার অপছন্দের বিষয়গুলো  তাকে শান্ত ভাবে বুঝান।

স্বামীর পছন্দ-অপছন্দের প্রতি যত্নশীল হোন

আপনার স্বামীর পছন্দ এবং অপছন্দের বিষয় গুলোর উপর যত্নশীল হোন এবং খেয়াল রাখুন।  স্বামীকে হাতে রাখার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পন্থা হচ্ছে,  তার ইচ্ছা অনিচ্ছা,  আদেশ নিষেধ  এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি যত্নবান হওয়া।  অর্থাৎ সে যা চাইবে না আপনি সেটা করবেন না,  সে আপনার কাছ থেকে যেটা আশা করে,  সে কাজটা করুন।  তাহলে দেখবেন তিনি আপনার প্রতি প্রেম ভক্তিতে কাতর হয়ে উঠছেন।  এবং মনে প্রাণে আপনাকে ভালবাসতে শুরু করবে।

 বিশেষ কোন দিনে বা ছুটির দিনে তার পছন্দের খাবার বানান।  এবং দুজন মিলে একসাথে বসে খাবার উপভোগ করুন। সামর্থ্য থাকলে তাকে বাইরে থেকেও কিছু ফাস্টফুড বা অন্য কোন খাবার আনতে বলুন এবং দুজন মিলে খান।  আপনি চাইলে খাবারের সাথে, আপনার স্বামী পছন্দ করে এমন কিছু মিষ্টি দ্রব্য বানাতে পারেন। কারণ পুরুষ ব্যক্তিত্ব মানেই নিজের প্রিয় মানুষের থেকে যত্ন পেতে ভালোবাসেন।

 আর এটা তো সবাই জানে যে,  কোন মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার  অন্যতম সহজ উপায়টি হলো তার পছন্দের খাবারের তালিকায় লুকায়িত থাকে। কারণ কেউ খেয়ে খুশি হলে,  তার মন জয় করার সহজ হয়ে যায়।

পরিশেষে,

যাইহোক সর্বশেষে স্বামীকে হাতে রাখার উপায় গুলোর মধ্য থেকে আমি একটি কথাই বলবোঃ  স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করুন,  নিজের ভিতরে স্বামী ভক্তি অর্জন করুন।  তাহলে দেখবেন আপনার স্বামী সহজেই আপনার আয়ত্তে থাকবে।  অযথা চেঁচামেচি অথবা ঝগড়াঝাটি করতে যাবেন না,  তাহলে হাত ফসকে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply