স্বাস্থ্য টিপস

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা। কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না

বর্তমানে ডায়াবেটিস বেশ প্রচলিত একটি রোগ। আজকের এই আর্টিকেলটিতে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা নিয়ে আলোচনা করব। তাছাড়া কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা, ডায়াবেটিস হলে কি কি সবজি খাওয়া যাবে না, তাও নিয়ে আলোচনা করব।

শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন তাহলে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল রোগী কী খাবেন কী খাবেন না, এই বিষয় নিয়ে চিন্তায় থাকেন। রোগীর সেই সমস্ত খাবার না খাওয়াই উচিত যেগুলি রক্তের সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রোগীর শরীরের সুগারের মাত্রা বাড়লে বা কমলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলে। অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার থেকে চোখ, স্নায়ু, এবং হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য খাদ্য নির্বাচনে সতর্ক হওয়া দরকার।

ডায়াবেটিস রোগীদের সর্বপ্রথম সতর্ক হতে হবে গৃহীত খাদ্যের পরিমাণ নির্বাচন নিয়ে। আমরা  খাদ্য খেয়ে থাকি এনার্জি পাওয়ার জন্য। এই খাদ্য থেকে পাওয়া এনার্জির একক হল ক্যালরি। এই ক্যালরির প্রয়োজন পড়ে কাজ করার জন্য।

এবার জেনে নেয়া যাক, ডায়াবেটিস রোগীর সকালের, বিকালের ও রাতের খাদ্য তালিকা-

ডায়াবেটিস রোগীর সকালের খাবার: সকাল ৭টা – ৮টার মধ্যে সকালের নাস্তা করতে হবে। দেরি হলে সকাল ৯টার মধ্যে নাস্তা খেতে হবে।

রুটি/চিড়া/খাই/মুড়ি/ওটস খেতে পারেন আপনার পছন্দ মতো। আপনি এটিতে ডিম এবং সবজি যোগ করতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীর মধ্য সকালের খাবার: সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আপনার পছন্দের ফল খেতে পারেন। মিষ্টি ফল খেতে চাইলে ১/২ কাপ খান।

ডায়াবেটিস রোগীর দুপুরের খাবার: দুপুর  ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে আপনার পরিমান মত ভাত, মাছ/মুরগীর মাংস, শাকসবজি, সালাদ ও লেবু ইত্যাদি খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগের বিকালের নাস্তা: বিকেলের নাস্তায় স্যুপ, ছোলা, চিনি ছাড়া বিস্কুট, মিষ্টি ছাড়া পিঠা, বাদাম, মুড়ি, চিনি ছাড়া রং চা ইত্যাদি খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীর রাতের খাবার: রাত  ৮.৩০ টা থেকে ৯.৩০ টার মধ্যে আপনি আপনার পছন্দ এবং পরিমাণ অনুযায়ী রুটি বা ভাত বা ওটস খেতে পারেন। সাথেমাছ/মুরগির মাংস, সবজি, সালাদ, লেবু ইত্যাদি খাবারে খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীর শোবার আাগের খাবার: রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এক কাপ দুধ খাবেন। দুধের সমস্যা হলে দই, ছানা, পনির ইত্যাদি পরিমাণ মতো খেতে পারেন।

জেনে নিনঃ সেরা ১০টি ডায়াবেটিস কমানোর উপায়। চিরতরে নিরাময় হবে

ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

এখন আমরা জানবো ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা সম্পর্কে। সরল শর্করা জাতীয় খাদ্য যেমন চিনি, গুড়, মধু, মিষ্টি ফলের রস, কোল্ড ড্রিংকস, আইসক্রিম খাওয়া চলবে না। কেননা এ সমস্ত খাবার খুব অল্প পরিমাণে খেলেও খুব দ্রুত রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও এ ধরনের খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাদ্য যেমন – ঘি, মাখন, মার্জারিন, চিজ, পেস্ট্রি খাবার সাথে ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এই সমস্ত খাবার রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দেয়। 

ময়দা জাতীয় খাদ্য। ময়দায় ফাইবার থাকে না। ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার খেলে দেহে শুধু ক্যালরির পরিমাণ বাড়ে। এছাড়া অ্যালকোহল এবং প্যাকেট জাত খাদ্য পরিহার করতে হবে।

আরও জানুনঃ খাওয়ার পর ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ডায়াবেটিসের মাত্রা কত?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে ডায়াবেটিস রোগীর ফুড পিরামিড
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে কি কি খাবার খাওয়া যাবে ডায়াবেটিস রোগীর ফুড পিরামিড

এখন আমরা জানবো ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা কি কি খাবার খেতে পারবে। 

  1. যে কোন ধরনের শাকসব্জি। 
  2. পরিমান মতো ভাত বা রুটি ।
  3. যে কোন রকমের ডাল । 
  4. ডিমের সাদা অংশ । 
  5. পরিমান মতো চিকেন । 
  6. যে কোন রকমের মাছ । 
  7. ভাবল টোনভ দুধ পান করতে পারেন।
  8. ভাবল টোনড দুধের দই 
  9. ওটস খাওয়া যাবে 
  10. ডালিয়ার খিচুড়ি প্রচুর সবজি মিশিয়ে।

এছাড়াও আপনার সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রতি সপ্তাহে ৫০ গ্রাম আলু খেতে পারেন। মাসে ২৫ – ৩০ গ্রাম মাটন খেতে পারেন।

আরও পড়ুন ;  মোটা হওয়ার ঔষধের নাম। ছেলেদের, মেয়েদের, হারবাল, ভিটামিন ঔষধ

ডায়াবেটিস রোগীর ফলের তালিকা

বিশ্বব্যপী প্রতিনিয়ত এই রোগের রোগীদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদেরকে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের দেশে প্রচলিত এবং বহুল পরিচিত বেশকিছু ডায়াবেটিস রোগীর ফলের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • কমলা লেবু 
  • পেয়ারা 
  • পাকা পেঁপে 
  • ব্লুবেরি – আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা সুপারফুড হিসাবে সুপারিশ করা হয়।
  • রাস্পবেরি
  • স্ট্রবেরি
  • আপেল
  • নাশপাতি
  • এপ্রিকটস
  • জাম্বুরা
  • কমলা
  • স্ট্রবেরি
  • খেজুর
  • আম
  • পীচ
  • আঙ্গুর
  • চেরি
  • মোসাম্বি
  • ডুমুর

ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রা কত

 ডায়াবেটিসের স্বাভাবিক মাত্রা – সুগার লেভেল 200 mg/dL বা তার বেশি।

খাওয়ার পর ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ভরা পেটে বা খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যাইহোক, যদি এই মাত্রা 7.8 পয়েন্টের (mmol/l) বেশি বৃদ্ধি পায়, তবে এটি প্রাক-ডায়াবেটিস হিসাবে বিবেচিত হয়। আর 11.1  (mmol/l) পয়েন্টের বেশি হলে তা ডায়াবেটিসের পর্যায়ে চলে যায়। 

কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না?

কি খেলে ডাযাবেটিস হবে না জেনে নিন
কি খেলে ডাযাবেটিস হবে না জেনে নিন

বর্তমানে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। কিন্তু এই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও ডায়াবেটিসের নিরাময় করতে পারেনি। এজন্য আপনাকে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমরা সবাই জানি, যেকোনো রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

একইভাবে, ডায়াবেটিসের নিরাময় খোঁজার পরিবর্তে, কীভাবে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা জানতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায় হল নিয়মিত নামাজ ও ব্যায়াম। এছাড়াও আপনাকে কিছু খাবার খেতে হবে যা আপনাকে ডায়াবেটিস দেবে না। কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না সে সম্পর্কে জানুন।

অনেকে মনে করেন যে চিনিযুক্ত খাবার মানে শুধুমাত্র চিনি এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবার নয় যাতে চিনি থাকে। যাইহোক, এটি একটি ভুল ধারণা যে যে খাবারগুলিতে চিনি এবং মিষ্টি বেশি থাকে তা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত। এটি ফল হতে পারে। এটি বিভিন্ন ধরনের শস্য হতে পারে।

ডায়াবেটিস এড়াতে নিয়মিত টক দই খাওয়ার চেষ্টা করুন। টক দই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এবং ভাল ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ। এছাড়াও, টক দই একটি দুগ্ধজাত পণ্য এবং এতে চিনির পরিমাণ খুব কম যা আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী খাদ্য উপাদানগুলির মধ্যে একটি। 

চিরতরে নিরাময় করতে জানুনঃ ডায়াবেটিস কমানোর সেরা ১০ উপায়।

মটরশুটি বা শিম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত খাবার। অতিরিক্ত সোডিয়াম সহ সিমে গ্লুকোজের কম পরিমাণ থাকে। শিম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই আপনি চাইলে এই খাবারটি খেতে পারেন।

পৃথিবীতে অনেক বেরি জাতীয় ফল রয়েছে। এই ফলগুলো এমন কিছু উপাদানে ভরপুর যেগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

এছাড়াও কুমড়ার বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে, তাই নিয়মিত কুমড়ার বীজ খান যা খুবই সুস্বাদু খাবার। 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাবার। আপেল ফাইবার সমৃদ্ধ এবং প্রায় ২৭% ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।

খেজুর আমাদের প্রিয়নবীর একটি প্রিয় খাবার, এই খাবারটি আমরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খেতে পারি।

ডায়াবেটিস হলে কি কি সবজি খাওয়া যাবে না

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জানুন কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জানুন কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না

বেশিরভাগ শাকসবজি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো – শাকসবজিতে থাকা ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যাইহোক, এমন কিছু শাকসবজি রয়েছে যা আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে এবং চিনি নিয়ন্ত্রণে বাঁধা দিতে পারে। এখন আমরা ১০টি সবজির যা ডায়াবেটিস হলে খাওয়া যাবে না বা কম খেতে হবে। কিন্তু নিয়ম মেনে চললে 10টির মধ্যে 5টি খেতে পারেন – বাকি 5টি ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়।

  • কুমড়ো
  • মিষ্টি আলু
  • টমেটো
  • পালং শাক
  • কচু
  • ওল
  •  কাঁচা মটরশুঁটি 
  • সব্জির জ্যুস
  • প্যাকেটজাত সব্জি
  • আলু

ডায়াবেটিস রোগী কি আপেল খেতে পারবে?

অনেকেই জানতে চান, ডায়াবেটিস রোগী কি আপেল খেতে পারবে? উত্তর হচ্ছে: আপেল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। আপেল অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর একটি ফল। এ ফলে খনিজ, ফাইবার, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীর কাঁচা সজনে পাতার উপকারিতা

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা সজনে পাতার খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত। কারণ কাঁচা সজনে পাতায় উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান রয়েছে, এটি রোগের চিকিত্সা এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি শরীরের ওজনের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। সজনেপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়, যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে।

জানুন, ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এবং মাত্রা কত হলে বিপদ সম্পর্কে।

ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কি

মনে রাখবেন মধু চিনির চেয়েও মিষ্টি। মধু রক্তে শর্করা কে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মধ্যে মিষ্টি না খাওয়াই ভালো।

অন্যান্য মিষ্টির চেয়ে মধু বেছে নেওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। যদি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আপনি খাদ্য-তালিকায় মধু যোগ করতে চান, তাহলে খাঁটি প্রাকৃতিক মধু বেছে নিন। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ কারণ প্রাকৃতিক মধুতে কোন চিনি থাকে না।

সবশেষে,

প্রিয় পাঠক, আশা করি আমাদের এই ফিচার পোষ্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা, নিষিদ্ধ খাবার তালিকা, ডায়াবেটিস রোগীর কাঁচা সজনে পাতার উপকারিতা, ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কিনা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে জানতে পেরেছেন। পোস্ট সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *